তারিখ: ৭ এপ্রিল, ২০২৫
স্থান: ঢাকা
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ইউনুস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত ৩৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক অন্তত তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়। তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত শুল্ক দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
মোহাম্মদ ইউনুস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), বিভিন্ন কৃষিপণ্য এবং প্রযুক্তিপণ্য আমদানির ব্যাপারে একাধিক চুক্তিতে সই করেছে। এতে আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ চায় একটি “বিজয়ী-বিজয়ী” (win-win) সম্পর্ক, যেখানে দুই দেশই লাভবান হবে। “আমরা আমাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছি। এখন আমরা চাই, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেবে।”
শুল্কের প্রভাব কী হতে পারে?
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। প্রধানত তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়বে এবং লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন একটি সময়ে যখন বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে তার অবস্থান আরও দৃঢ় করতে চাচ্ছে, তখন এই ধরনের শুল্ক আরোপ করা হলে তা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
রাষ্ট্রপ্রধান ইউনুসের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে মূল্য দেয় এবং একতরফা শুল্ক আরোপ না করে উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে আগ্রহী।

